ইনবাউন্ড মার্কেটিং কি?ইনবাউন্ড মেথডলজি কি?

মার্কেটে কম্পিটিশনে টিকতে হলে হয়তো প্রোডাক্ট কোয়ালিটি বাড়াতে হয়, নয়তো দাম কমাতে হয়। আর এই দুটোর সামঞ্জস্যতা যে সবচেয়ে বেশি ভালো করবে সে মার্কেট ধরতে পারবে খুব সহজে। তেমন একটি মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি হচ্ছে ইনবাউন্ড মার্কেটিং যা সরাসরি লিড জেনারেশনের সাথে সম্পৃক্ত। 

ইনবাউন্ড মেথডলজি কি? 

একটি অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে কাস্টমার বা কনজিউমারের সাথে প্রাসঙ্গিক, অর্থবহ, এবং দীর্ঘস্থায়ী রিলেশনশীপ তৈরির মাধ্যম কে বলা হয় ইনবাউন্ড মেথডলজি। অর্থাৎ কাস্টমারের যে অংশটি প্রয়োজন তাকে ঠিক ঐ জিনিস পৌঁছে দেওয়া এবং ঐ নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট বিক্রেতার মধ্যে সঠিক যোগসূত্র সৃষ্টি করার এই ইনবাউন্ড মেথডলজির কাজ। 

এই ইনবাউন্ড মেথডলজির মূল থিম হচ্ছে- কাস্টমারের সন্তুষ্টি মানে বিক্রেতার সফলতা। ইনবাউন্ড মেথডলজি তিন ভাবে কাজ করে। যেমন-

  • Attract
  • Engage
  • Delight

Attract: সঠিক মানুষের কাছে সঠিক জিনিস পৌছে দেয়ার জন্য প্রথমে মূল্যবান কন্টেন্ট ব্যবহার করা হয়। যাতে করে কনভার্সন বৃদ্ধি পায় এবং কাস্টমারের এঙ্গেজমেন্ট বৃদ্ধি পায়।  

Engage: মানুষের যখন কোন সমস্যা বা প্রয়োজন হয়, তখন তাকে ঐ নির্দিষ্ট জিনিসের সমাধান বা প্রয়োজন মেটানোর ভালো পরামর্শ দিলে তখন তাদের মনে সমাধানকারীর জন্য আলাদা একটা দৃষ্টিকোণ সৃষ্টি হয়। ফলে তারা ঐ সমাধান বা পরামর্শ খোঁজার জন্য ক্লিক করে যা মূলত কনভার্সন বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এতে করে বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয়ের জন্য সমানভাবে লাভজনক হয়। 

Delight: যখন কাস্টমারকে সঠিক পরামর্শ দেওয়া হয়, তখন কাস্টমার বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গা থেকে কোন কিছু কেনার ক্ষেত্রে দ্বিধাবোধ করেন না। 

ফাইভারে কাজ পাবার উপায়

এর ফলাফল কিন্তু আরো বেশি মধুর। যখন একজন কাস্টমার এই রকম একটা মাধ্যম থেকে পরামর্শ পেয়ে উপকার পেয়ে থাকেন, তখন তারা জিনিসটি বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করেন। ফলে ঐ যায়গা থেকেও নতুন নতুন কাস্টমার সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। 

ইনবাউন্ড মার্কেটিং করার পদ্ধতি

ইনবাউন্ড মার্কেটিং এর মাধ্যমে কার্যকর ভাবে টার্গেটেড অডিয়েন্সের মাঝে পৌছানো সম্ভব। কারণ এখানে শুধু মাত্র প্রয়োজনীয় কাস্টমারের নিকট মার্কেটিং করা হয়। এক্ষেত্রে অন্যন্য মার্কেটিং এর তুলনায় খরচ কম এবং সবচেয়ে বেশি কার্যকর, এখানে প্রত্যেকটি স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলাদা আলাদা করে আলোচনা করা হয়েছে, কিভাবে এট্রাক্টিং, এঙ্গেইজিং, এবং ডেলাইটিং কনজিউমার মেথড কাজ করে। 

Attracting Strategies

ইনবাউন্ড মার্কেটিং পদ্ধতির মূল লক্ষ্য থাকে অডিয়েন্সকে বায়ারের পন্যের প্রতি আকৃষ্ট করানো। এক্ষেত্রে ইনবাউন্ড মার্কেটিং পদ্ধতি যে বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে থাকে, তা হলো কাস্টমারের প্রয়োজনীতা। কারণ কাস্টমারের কোন কিছু প্রয়োজন না হলে কাস্টমার কিন্তু আপনার পন্যের দিকে ফিরেও চাইবে না। বরং উল্টো কাস্টমারের মনে হতে পারে আপনি জোর করে কোন পন্য কেনাতে বাধ্য করছেন। 

অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে হলে আপনাকে মূল্যবান কন্টেন্ট নিয়ে তাদের সামনে যেতে হবে। যেমন ভালো মানের ব্লগ আর্টিকেল, কন্টেন্ট অফার এবং সোশ্যাল মিডিয়া যা তাদের উপকারে আসবে। ধরুন আপনি টার্গেট করতে চাচ্ছেন, এসইও নিয়ে আগ্রহ ব্যক্তিদের। এখন যাদের এসইও নিয়ে আগ্রহ আছে, তারা নিশ্চই এসইও রিলেটেড প্রিমিয়াম কিছু কম দামে বা ফ্রি তে পেলে নিশ্চয় তাদের খুব বেশি পরিমানে আকৃষ্ট করবে। এক্ষেত্রে সফল মার্কেটিং চালানোর জন্য বা সফল লিড সংগ্রহ করার জন্য তাদের কিছু মূল্যবান কন্টেন্ট এর লোভ দেখাতে হবে, যাতে করে সে দেখেই ক্লিক করে বসে এবং আপনার ক্যাম্পেইনের কনভার্সন বৃদ্ধি পায়। 

এক্ষেত্রে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার, আর তা হলো কন্টেন্টকে পূর্ণাঙ্গ রুপে এসইও করা। এসইও  করার ক্ষেত্রে একটি কি-ওয়ার্ডকে ফোকাস করা দরকার যেন খুব সহজে কাস্টমার ঐ পোস্টে রিচ করতে পারে।  

পিপিপিসি মার্কেটিং কি?কেন করবেন?

কন্টেন্টের সঠিক এসইও করলে এটির আরো অনেক উপকারীতা রয়েছে। যেমন একই সাথে মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে কাজে তো লাগলোই সেই সাথে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেইজেও অর্গানিক ভাবে কন্টেন্টটি শো করবে। সার্চ ইঞ্জিন থেকে যে সকল ক্লিক আসে, আর ৯০% এর ও বেশি ক্লিক রিলিভেন্ট। 

Engaging Strategies 

যখন আপনি কোন কাস্টমারকে ভালোভাবে এঙ্গেইজ করতে পারবেন আপনার পোস্টে অর্থাৎ ক্লিক করিয়ে ল্যান্ডিং পেইজে নিয়ে আসতে পারবেন তখন সর্বপ্রথম যে কাজটি করা উচিত, সেটি হচ্ছে কাস্টমারের সাথে ভালো রিলেশনশীপ তৈরি করা, যার ফলাফল হবে কাস্টমারের লিড সংগ্রহ করা। এক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে কাস্টমারের সর্বোচ্চ সুবিধার কথা। ধরুন কেউ কোন ল্যান্ডিং পেইজে প্রবেশ করলো। তখন যদি ইনস্ট্যান্ট চ্যাটবক্স রাখা যায়, এবং কাস্টমারের ইন্সট্যান্ট প্রশ্নের জবাবের মাধ্যমে সুন্দর একটি সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব। 

সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে কাস্টমারের সলুউশনের উপর। কারণ কাস্টমার যখন সমাধান পাবে তখন কাস্টমারের বিশ্বাসযোগ্যতার পাল্লা ভারি হবে। যত বেশি বিশ্বাস যোগ্যতার পাল্লা ভারী হবে তত বেশি পরিমানে কাস্টমার পন্য কিনবে এবং অন্যকেও উৎসাহী করার চেষ্টা করবে। কারণ দিন শেষে কাস্টমারের উপকার মানে সেলারের সফলতা। 

Delighting Strategies 

ডেলাইটিং ইনবাউন্ড ট্র্যটেজিস নিশ্চিত করে কাস্টমাররা স্যাটিসফাইট, পণ্য কিনে খুশি হয়েছে এবং পরবর্তীতে কেনার জন্য আগ্রহী। এই পদ্ধতির সফলতা নির্ভর করে সম্পূর্ন আপনার মার্কেটিং টিমের এডভাইজরের এবং যারা কাস্টমারকে সরাসরি ডিল করেছে তাদের উপর। 

এইক্ষেত্রে চ্যাটবোট, সার্ভে, এসিস্ট সাপোর্ট এবং রিকোয়েস্ট ফিডব্যাক ইত্যাদির মাধ্যমে কাসটমারের লিড সংগ্রহও করা যায়। এই বটের মাধ্যমে সংগ্রহ করা লিড গুলো পরবর্তীতে নর্মাল কাস্টমারকে রেগুলার কাস্টমারে রুপান্তর করা যায়। আর কাস্টমারেরে যদি সঠিক ফিডব্যাক পাওয়া যায়, তাহলে কাস্টমারের রেকমেন্ডেশন থেকেও অনেক নতুন কাস্টমার সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। 

অনেক সময় দেখা যায়, সোশ্যাল মিডিয়াতে কাস্টমার রেকমেন্ডেশন করে থাকে, সেখান থেকে এক রকম মানুষের ফিডব্যাক পাওয়া যায়, ঐ ফিডব্যাক থেকেও লিড সংগ্রহ করা যায়। পরবর্তীতে ঐ লিড দিয়ে রেকমেন্ডেশনে আগ্রহ প্রকাশ করা ব্যাক্তিদের টার্গেট করে নতুন কাস্টমার তৈরির প্রয়াস চালানো সম্ভব। 

সর্বশেষ যদি ডেলাইটিং স্ট্র্যটেজি নিয়ে বলতে হয়, তাহলে বলা যায় এটির মুল উদ্দেশ্য কাস্টমারের সাথে সহযোগীতা মূলক আচরণ সৃষ্টির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী বন্ডিং সৃষ্টি করা। যদি কাস্টমারের পরামর্শ শেয়ারের জন্য বিজনেসের কোন প্রকার লাভও না হয়, তবুও কাস্টমারকে সঠিক পরামর্শ দেয়া। যদি একবার কাস্টমারের বিশ্বাসযোগ্যতার স্থানটি দখল করে নিতে পারেন, তাহলে সেই কাস্টমারের মাধ্যমে আরো অনেক কাস্টমারের সন্ধান পাওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে কোন কাস্টমার বড় পণ্যের খোজ করছেন, আর কোন কাস্টমার ছোট পন্য খোজ করছেন, এই সব দিয়ে পার্থক্য সৃষ্টি করা যাবে না। ছোট বড় সকল কাস্টমারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বাস তৈরি করতে হবে। 

মার্কেটিং এ ইনবাউন্ট মেথডলজির ব্যবহার 

একজন ইনবাউন্ড মার্কেটার হিসেবে আপনার প্রয়োজন কোম্পানির পন্যের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করিয়ে দেওয়া, এংগেইজ বাড়ানো, এবং ডেলাইট করা। এই পদ্ধতিটি মার্কেটিং এ ব্যবহার করতে পারলে স্বল্প সময়ে সফলতা লাভ করা সম্ভব।

১ ক্লিকে তৈরি করুন ওয়েবসাইট আইটি নাট ওয়েবসাইট বিল্ডার

কাস্টমারকে এট্রাক্ট করার জন্য ব্যবহার করা যায়ঃ 

  • এডস
  • ভিডিও
  • ব্লগিং
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি

এঙ্গেইজ করার জন্য ব্যবহার করা যায়ঃ

  • লিড ফ্লো
  • ইমেইল মার্কেটিং
  • লিড মেনেজমেন্ট
  • কনভার্শনাল বোট
  • মার্কেটিং অটোমোশন

ডেলাইট টুল হিসেবে ব্যবহার করা যায় যায়ঃ

  • স্মার্ট কন্টেন্ট
  • ইমেইল মার্কেটিং
  • কনভার্সেশন্স ইনবক্স
  • এট্রিবিউট রিপোর্টিং
  • মার্কেটিং অটোমোশন

সফল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন চালানোর ক্ষেত্রে ইনবাউন্ড মার্কেটিং অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি। খুব সহজে সঠিক কাস্টমারের নিকট পৌছানো সম্ভব এই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে। 

You May Also Like

Leave a Reply

%d bloggers like this: