সিডিএন কি? ক্যাশ কি? সিডিএন কিভাবে কাজ করে?

স্লো ইন্টারনেট স্পীড যেমন একটি বিরক্তের কারণ তেমনি স্লো ওয়েবসাইট স্পীড একটি অভিশাপ, কারণ ওয়েবসাইট স্লো হলে তা ইউজারের কাছে বিরক্তি সৃষ্টি করে। তারা অল্টারনেটিভ ওয়েবসাইটে মুভ করে যার ফলে ওয়েবসাইট তৈরির আসল উদ্দেশ্য সফল হয় না। এতে ওয়েবসাইট থেকে আসা ইনকাম কমে যায় এবং ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাঙ্ক ড্রপ করে। এসকল সমস্যা থেকে নিজের ওয়েবসাইট রক্ষা করতে আমরা অনেক কিছুই ট্রাই করি। অনেকেই হোস্টিং পরিবর্তন করতে বলে বা ওয়েবসাইট স্পীড অপ্টিমাইজ করতে বলে। তবে হোস্টিং পরিবর্তন না করে সহজেই যে কোন ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড পূর্বের থেকে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা যায়। আজকের পোস্টে আমরা সিডিএন কি এবং এটি কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে জানবো।  

সিডিএন কি?

কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক এর সংক্ষিপ্ত রুপ হলো সিডিএন। সংক্ষেপে বর্ণনা করতে গেলে সিডিএন হলো একটি সিস্টেম যা ইউজারকে কনটেন্ট ডেলিভারি করে। বিস্তারিত ভাবে বলতে গেলে সিডিএন হলো এমন একটি ব্যবস্থা যা অনেকটা ওয়েব সার্ভারের মত কিন্তু এতে সাধারণ সার্ভারের মত ফাইল ষ্টোর করা যায় না। 

সাধারণ সার্ভার গুলোয় ওয়েবসাইটের ফিজিক্যাল ফাইল ষ্টোর করা হয় যা আমরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে দেখতে পাই। কিন্তু সিডিএন ওয়েবসাইটে সেই একই ফাইল দেখায় তবে তাদের নিজস্ব জিওলজিক্যাল সার্ভার থেকে। 

অর্থাৎ একটি ওয়েবসাইট যখন সিডিএন ইউজ করে তখন আপনি সেই ওয়েবসাইট ভিজিট করলে উক্ত ওয়েবসাইটের একটি কপি দেখতে পাবেন যা মেইন সার্ভার থেকে ক্যাশ করা। আপনি যখন ব্রাউজারে কোন পেজ দেখার রিকোয়েস্ট করেন তখন সে রিকোয়েস্ট আপনার লোকেশনের কাছাকাছি সিডিএন সার্ভার খুঁজে বের করে। সার্ভার খুঁজে সেখান থেকে আপনার রিকোয়েস্ট করা পেজ দেখায়। 

আইপি এড্রেস কি? আইপি এড্রেস কিভাবে কাজ করে

এখানে আপনার কাছাকাছি সার্ভার খুঁজে পাওয়ার কারণে আপনার ইন্টারনেট স্পীড স্লো হলেও দ্রুত পেজ লোড হয়। আরও পরিষ্কার করে আলোচনা করলে বিষয়টি আরও সহজে বোঝা যাবে। ধরুন আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে যা ইংল্যান্ডের একটি সার্ভারে হোস্ট করা আছে। কিন্তু আপনার সকল ভিজিটর এশিয়া থেকে আসে। 

তাহলে কেউ যদি আপনার ওয়েবসাইট দেখতে চায় তাহলে ব্রাউজার পেজ রিকোয়েস্ট সেন্ড করার পর তা অনেক রাস্তা পাড়ি দিয়ে ইংল্যান্ডে যাবে এবং উক্ত পেজ নিয়ে সেই একই দূরত্ব অতিক্রম করে ব্রাউজারে শো করবে। আমরা জানি ইন্টারনেটে ডাটা আদান প্রদান হয় আলোর মাধ্যমে।

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে কখনো কোন কমিউনিকেশন সিগন্যাল আলোর গতির থেকে দ্রুত যেতে পারে না। এদিক থেকে ইন্টারনেট ডাটার গতি কিন্তু লিমিটেড। এই লিমিটেড স্পীডের কারণে দূরত্ব যত বেশি হয় স্পীড তত কম হয়। 

কিন্তু যদি সেই একই ওয়েবসাইট আপনার ইউজারের লোকেশনের আসে পাশের কোন সার্ভার থেকে ব্রাউজারে শো করানো যায় তাহলে কিন্তু অনেক দ্রুত পেজ লোড হবে। এই চিন্তা ভাবনা থেকেই সিডিএন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করা হয়।   

ক্যাশ কি?

টেম্পোরারি স্টোরেজ ফোল্ডারকে ইন্টারনেটের ভাষায় ক্যাশ বলে। যেমন আমরা কোন নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করলে ব্রাউজার ইন্সটালেশন ফোল্ডারে একটি টেম্পোরারি ফোল্ডার তৈরি হয়। যেখানে উক্ত ওয়েবসাইটের সকল ডাটা ডাউনলোড হয়ে থাকে। এতে পরবর্তীতে ওই ওয়েবসাইট ভিজিট করলে সেই ফোল্ডার থেকে রিসোর্স নিয়ে এসে ব্রাউজারে শো করানো হয়। 

ইন্টারনেটের ভাষায় ক্যাশ বলতে কোন ওয়েবসাইটের ফুল কপি ডাউনলোড করে রাখা। ক্যাশ করে রাখার সুবিধা হলো এতে ওয়েবসাইট রিসোর্স বার বার ডাউনলোড করার দরকার পরে না, এতে ওয়েবসাইট রিসোর্স অতি দ্রুত লোড হয়। 

সিডিএন টেকনোলজি সিস্টেম ঠিক এই পদ্ধতিতে মেইন সার্ভার থেকে ফুল ওয়েবসাইট ফাইল ডাউনলোড করে সিডিএনের প্রতিটি লোকাল সার্ভারে ষ্টোর করে রাখে। আবার ওয়েবসাইটে যখন নতুন কিছু অ্যাড করা হয় তখন তা প্রতিটি সিডিএন সার্ভার ক্যাশ করে কাশিং সার্ভারে থাকা ডাটা আপডেট করে নেয়।

সিডিএন কিভাবে কাজ করে?

সিডিএন সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে কাজ করে। কনটেন্টকে ভিজিটরের কাছাকাছি নিয়ে আসার জন্য এখানে PoPs বা Point of Presence পদ্ধতি ইউজ করা হয়। অর্থাৎ একসাথে অনেকগুলো ক্যাশিং সার্ভার নিয়ে অনেকটা ডাটা সেন্টারের মত তৈরি করা হয়। প্রতিটি ডাটা সেন্টার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থাপন করা হয়, এভাবে ফাইল আদান প্রদানের পুরো রাস্তা কমিয়ে আনা হয়।

তারপর প্রতিটি ক্যাশিং সার্ভার সিডিএন ইউজ করে প্রতিটি ওয়েবসাইট ক্যাশ করে রাখে। বিভিন্ন দেশে সার্ভার থাকার কারণে যে কোন লোকেশন থেকে ওয়েবসাইট ভিজিট করলে সেই লোকেশনের কাছাকাছি সার্ভার থেকে পেজ লোড হয়। এতে যেমন ওয়েবসাইট লোডিং স্পীড কমে তেমনি ব্যান্ডউইথ অনেক কম খরচ হয়।

 ক্যাশিং সার্ভার গুলো সাধারণত এসএসডি, এইচডিডি অথবা র‍্যাম দিয়ে তৈরি হয়। তবে বর্তমান সময়ের সকল সার্ভার হয় এসএসডি অথবা র‍্যাম দিয়ে তৈরি করা হয়। কারণ এসএসডি এবং র‍্যামে ফাইল রিড এবং রাইট অনেক দ্রুত হয়। এদের মধ্যে বেশীরভাগ সার্ভার র‍্যাম দ্বারা তৈরি। কারণ র‍্যাম এসএসডির থেকে দ্রুত ফাইল রিড এবং রাইট করতে পারে।

এই তিনটি পদ্ধতিতে সিডিএন কাজ করে। সিডিএন ইউজ করার জন্য আপনাকে কোন সিডিএন প্রোভাইডার থেকে সার্ভিস নিতে হবে, যেমন ক্লাউডফ্লেয়ার । আপনি ফ্রি অথবা পেইড দুই ভাবেই সিডিএন সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবেন। সিডিএন সকল প্রকার ওয়েবসাইট যেমন ব্লগার, ওয়েবলি, ওয়ার্ডপ্রেস সহ অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে ইউজ করা যায়। 

তবে ওয়ার্ডপ্রেসে সেটআপ অনেক সহজ। ওয়েবসাইটে সিডিএন অ্যাক্টিভ করার জন্য ডোমেইন এবং মূল ওয়েবসাইট ডাটাবেস থেকে কনফিগার করতে হয়। ডোমেইনে সিডিএন নেমসার্ভার ইউজ করতে হয় যাতে কেউ ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে চাইলে সিডিএনের নেমসার্ভার ডিটেক্ট করে এবং ক্যাশ সার্ভারে নিয়ে যায়।

সিডিএন সিকিউরিটি

অনেক সিডিএন সার্ভিস আছে যারা এসএসএল সহ অন্যান্য সিকিউরিটি সার্ভিস প্রদান করে। যেমন ক্লাউডফ্লেয়ার ফ্রীতে এসএসএল সার্ভিস প্রদান করে থাকে। এছাড়া ক্যাশ সার্ভার হওয়ার কারণে আপনার ওয়েবসাইটে ডিডস অ্যাটাক করলেও তা কাজ করে না। কারণ যেহেতু আপনার সাইট কোন একটি ডেডিকেটেড সার্ভার থেকে অপারেট হয়না সেহেতু অ্যাটাক সঠিকভাবে কার্যকর হয় না। 

তবে সিডিএন ইউজ করলে যে আপনার ওয়েবসাইট কখনোই হ্যাক হবে না তেমন নয়। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি এই সময়ের মধ্যে ক্লাউডফ্লেয়ার “CloudBleed HTTPS traffic leak” নামক একটি অ্যাটাকের শিকার হয়। 

এতে প্রায় ৭ মিলিয়ন ক্লাউডফ্লেয়ার সিডিএন ইউজ করা ওয়েবসাইটের ডাটা ফাঁস হয়ে যায়। এর পেছনের প্রধান কারণ হলো সিডিএন একটি শেয়ারড নেটওয়ার্ক কানেকশন ইউজ করে। এতে কোন ভাবে নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস পেয়ে গেলে সেই নেটওয়ার্কে থাকা সকল ওয়েবসাইটের অ্যাক্সেস নিয়ে নেওয়া যায়।

সিডিএন এর সুবিধা এবং অসুবিধা

সুবিধা

  • ফাস্ট ওয়েবসাইট লোডিং স্পীড
  • ব্যান্ডউইথ খরচ কমায়
  • দ্রুত কনটেন্ট পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে
  • ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি উন্নত করে
  • পুরো বিশ্বব্যাপী দ্রুত পৌঁছান যায়
  • অল্প টাকায় গোটা বিশ্বের লোকাল ক্যাশ সার্ভার ইউজ করা যায়
  • ওয়েবসাইট সবসময় অর্থাৎ ২৪/৭ অনলাইন থাকে
  • সার্ভার লোড টাইম কমায়
  • ওয়েবসাইটের বিস্তারিত অ্যানালিটিক্স ডাটা পাওয়া যায়
  • ফাইল মিনিফাই করার ফলে সার্ভারে স্টোরেজ সেভ করা যায়  

অসুবিধা

  • শেয়ার নেটওয়ার্ক কানেকশন ইউজ করে
  • প্রক্সি বা ভিপিএন কানেকশনে অনেক সময় সাইট ব্লক হয়ে থাকে
  • এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রতিটি দেশে পরিপূর্ণভাবে ক্যাশ সার্ভার ডিস্ট্রিবিউশন করা হয়নি
  • ওয়েবসাইট পরিচালনায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়

জিজ্ঞাসা

সিডিএন কি ইউজ করতেই হবে?

সিডিএন ইউজ করা নির্ভর করে আপনার প্রয়োজনের উপরে। ধরুন আপনার একটি অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইট আছে এবং তার টার্গেটেড ভিজিটর ইউএসের। এখন আপনার সেই ওয়েবসাইট পুরো বিশ্বব্যাপী দেখিয়ে লাভ নেই। সেই ক্ষেত্রে আপনি একটি আমেরিকায় অবস্থিত সার্ভার স্টোরেজ নিলে আর আলাদা সিডিএন ইউজ করার প্রয়োজন পরবে না।

ডেস্কটপ কিনবেন? না ল্যাপটপ কিনবেন?

সিডিএন কি শুধু ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য?

সিডিএন সকল ধরনের ওয়েবসাইটের জন্য। এখানে বিশেষ কোন নিয়ম কানুন নেই। আপনি আপনার প্রয়োজন মত যে কোন সিএমএসে বা সিএমএস ছাড়াও ওয়েবসাইট সিডিএন ইউজ করতে পারবেন।

সিডিএন কি ফ্রীতে ব্যবহার করা যায়?

জ্বি, সিডিএন ফ্রী এবং পেইড উভয় ভাবেই ইউজ করা যায়। তবে ফ্রীতেই মোটামুটি কাজ হয়ে যায়। কিন্তু অ্যাডভানস ফিচার ইউজ করার জন্য পেইড ইউজ করতে হবে।

সিডিএন কি সিকিউর?

জ্বি, সিডিএন সিকিউর একটি সিস্টেম। টেকনোলজি উন্নতির সাথে সাথে সিডিএন সিস্টেম সিকিউরিটি এবং ইউজার এক্সপেরিয়েন্স উন্নত হচ্ছে।

বিশ্বের বড় বড় ওয়েবসাইট গুলো সিডিএন ইউজ করে পুরো বিশ্ব কভার করার জন্য। আপনার যদি কোন ইন্টারন্যাশনাল ওয়েবসাইট থাকে তাহলে সিডিএন সার্ভিস ইউজ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়া ওয়েবসাইটে যদি অনেক বেশি ভিজিটর আসে তাহলে সে ক্ষেত্রেও সিডিএন এই বাড়তি ভিজিটর হ্যান্ডেল করার জন্য জরুরী। আশাকরি লেখাটি পড়ে আপনার সিডিএন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা হয়েছে। সিডিএন সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন ধন্যবাদ।  

You May Also Like

Leave a Reply

%d bloggers like this: